ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সরকার আপস করছে না: অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সরকার আপস করছে না: অর্থমন্ত্রী

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে সরকার আপস করছে না জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকারি তহবিল যদি এভাবে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের কারণে ক্ষয় হতে থাকে, তাহলে উন্নয়ন কার্যক্রম ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই দেশের স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কেইপিজেড ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি-সিআইইউর শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান। সিআইইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসারের সভাপতিত্বে ও সহকারী রেজিস্ট্রার রুমা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কিহাক সাং, সিআইইউ’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান লুৎফি এম আইয়ুব, সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন কোরিয়ান ইপিজেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইয়ংওয়ান কর্পোরেশন ও কোরিয়ান ইপিজেডের কর্মকর্তাবৃন্দ, সিআইইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও কর্মকর্তারা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এখন বৈশ্বিক সংকটে রূপ নিয়েছে,যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাশ্রয় প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকার থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবাইকে এতে অংশ নিতে হবে এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশে এখনও তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে উচ্চ মূল্যে তেল ও গ্যাস কতদিন এভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা চিন্তার বিষয়। তাই শিগগিরই তেলের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক তেলের সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, আমেরিকাসহ সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। দেশের অধিকাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং সংকট মোকাবিলায় সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগাযোগ চালু রেখেছে। সর্বোপরি জ্বালানি নিরাপত্তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনও কম্প্রোমাইজের সুযোগ নেই। সবকিছুর সাপ্লাই চেইন অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি চ্যালেঞ্জ, যার মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করা হবে। ব্যাংক ঋণ নির্ভর বিনিয়োগের তুলনায় পুঁজিনির্ভর বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। জ্বালানির দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে, ফলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়বে। তবে অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম বাড়ায়নি। বৈশ্বিক সংকটের কারণে গার্মেন্টস, কৃষিপণ্য ও টেক্সটাইল খাতে আয় কমেছে। তবে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং গার্মেন্টস খাতের পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

—এজেড