ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১০ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা

ঘাতক হিশামের উগ্র ও অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে আগেই পরিবার সতর্ক করেছিল পুলিশকে

 ঘাতক হিশামের উগ্র ও অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে আগেই পরিবার সতর্ক করেছিল পুলিশকে

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুগারবিয়েহর উগ্র ও অস্বাভাবিক আচরণ সম্পর্কে তার পরিবার আগে থেকেই পুলিশকে জানিয়েছিল। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিশামের ছোট ভাই আহমাদ আবুগারবিয়েহ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

আহমাদ আবুগারবিয়েহ জানান, হিশাম অত্যন্ত রাগী স্বভাবের ছিলেন এবং তার কারও সাথে রুমমেট হিসেবে থাকা মোটেও নিরাপদ ছিল না। তিনি বলেন, “আমি জানতাম না যে তার কোনো রুমমেট আছে। তার হয় একা থাকা উচিত ছিল, নয়তো ঘরছাড়া থাকা দরকার ছিল।” আহমাদ আরও জানান, হিশাম মাঝরাতে চিৎকার করে নিজেকে সৃষ্টিকর্তা দাবি করতেন এবং সবার মাথা নত করার কথা বলতেন। ২০২৩ সালে ভাইয়ের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর আহমাদ সুরক্ষা আদেশের আবেদনও করেছিলেন, কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা এগিয়ে নিতে পারেননি।

২৭ বছর বয়সী লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নিখোঁজ হওয়ার পর গত শুক্রবার লিমনের এবং রোববার বৃষ্টির দেহাবশেষ টেম্পা বে-র হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রসিকিউটরদের মতে, ১৬ এপ্রিল রাতে হিশামকে একটি ট্রলি কার্ট ব্যবহার করে কিছু কার্ডবোর্ড বাক্স ডাম্পস্টারে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল, যা সন্দেহ আরও জোরালো করে।

গত শুক্রবার হিশাম যখন তার পারিবারিক বাড়িতে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং তার নিজের বোনকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, তখন আহমাদ নিজেই পুলিশ ডাকেন। হিশাম কেবল একটি তোয়ালে পরা অবস্থায় আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে এবং মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি স্টেট অ্যাটর্নি সুজি লোপেজ হিশামকে ‘সমাজের জন্য বিপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নিহত জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। দুই বছর আগে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এই যুগল দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন এবং পড়াশোনা শেষ করে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ঘাতক হিশামের হাতে তাঁদের সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে শেষ হয়ে গেল।

হিশামের ভাই আহমাদ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছেন, “আমার পরিবার অনেক লজ্জা ও অপরাধবোধ অনুভব করছে। আমরা পুলিশকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলাম।”

এসএফ