ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

আ.লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

আ.লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কিছু পরিমার্জন ও সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি জাতীয় সংসদে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করেন।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন এনে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে ফ্যাসিবাদের অভিযোগে যেকোনো রাজনৈতিক সত্তার সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কমিটি এটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে সংশোধনীর মাধ্যমে অনুমোদনের পক্ষে মত দিয়েছে।

গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’টি বর্তমান অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। বিশেষ কমিটি এটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে। কমিটির মতে, মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম বিরোধী আইনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো তড়িঘড়ি পাস না করে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ বিল আকারে সংসদে আসবে, যার কারণে গুমের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৪টি অধ্যাদেশ সরাসরি বাতিলের (Repealed) সুপারিশ করেছে কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে: সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ। জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের যে ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, এই বাতিলের সুপারিশের ফলে তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।

পর্যালোচনা শেষে ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, পুলিশ কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিটির এই সিদ্ধান্তের ওপর জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরাসহ বিরোধী দলীয় সদস্যরা ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।