ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে আইন পাস

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে আইন পাস

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) সুনির্দিষ্ট চারটি কাজকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে অসদাচরণের দায়ে দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সংষদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম এই বিলটি পাসে মোট সময় লেগেছে মাত্র ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড। বিলটির ওপর কোনো আলোচনা হয়নি এবং বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটে পক্ষ বা বিপক্ষ—কোনো অংশেই অংশ নেননি।

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী নিচের কাজগুলোতে লিপ্ত হলে তিনি ‘অসদাচরণের’ দায়ে দণ্ডিত হবেন—

১. এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যা অনানুগত্যের শামিল অথবা যা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে কিংবা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে।

২. অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকা, বিরত থাকা বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়া।

৩. অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তাঁর কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে, বিরত থাকতে বা কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেওয়া বা প্ররোচিত করা।

৪. যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তাঁর কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করা।

তিন ধরনের শাস্তির বিধান বিলে উল্লেখিত চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতায় এনে তিনটি বড় শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো—চাকরি থেকে বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং বেতন ও পদের গ্রেড কমিয়ে দেওয়া।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারির পরদিন থেকেই সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারি কর্মচারীরা এর প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভ করেছিলেন। তবে বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিলটি পাস হলে সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠাসহ এ সংক্রান্ত আইনগত কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক হবে।

—এজেড