ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

গোলাম পরওয়ার

সরকার জনগণের ভাগ্য বদলের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে বেশি ব্যস্ত

সরকার জনগণের ভাগ্য বদলের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে বেশি ব্যস্ত

জ্বালানি সংকট ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,জ্বালানি সংকটে পেট্রোল পাম্পে মাইলের পর মাইল লাইন লেগে আছে। অথচ পার্লামেন্টে মন্ত্রীরা বলছেন কোনো সংকট নেই। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ আজ দিশেহারা। কৃষিতে সেচ সংকট তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের দামে। সরকার জনগণের ভাগ্য বদলের চেয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে বেশি ব্যস্ত।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিডিপির চেয়ারম্যান অ্যাড. আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৭০ শতাংশ জনরায়কে বাস্তবায়নে বিএনপি গড়িমসি করছে। সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো পরিবর্তনের মৌলিক বিষয়ে বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, গণভোটে দেশের পাঁচ কোটি মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল জনরায় মেনে নেওয়া। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিয়ে এবং বৈঠক এড়িয়ে গিয়ে দেশে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এই সংকট নিরসনের চাবিকাঠি এখন বিএনপির হাতেই। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সেই জনরায় উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হবে। পার্লামেন্টে সেশন চলছে। সেখানেই সমাধানের সুযোগ আছে বলে মনে করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সরকারের সাম্প্রতিক ভূমিকার সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের বয়স মাত্র এক মাস পার হলো। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলীয় নেতারা রাজপথের আন্দোলন দমনের হুমকি দিচ্ছেন। এটি আওয়ামী লীগের ভাষা, ফ্যাসিবাদের ভাষা। আপনারা যদি জনগণের অভিপ্রায় উপেক্ষা করেন, তবে আমাদের সামনে রাজপথ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু বিএনপি সেখানে ভিন্নমত দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসন ও দুর্নীতির পথ সুগম করতে চায়।

—এজেড