স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বেশির ভাগ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। বিশেষ পরিস্থিতিতে গঠিত ওই সরকারের দু–একটা কর্মকাণ্ড বৈধতা পাবে না। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধী দল রাজনীতি করতে চাচ্ছে। গুম, মানবাধিকার, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও ভালো আইন করা হবে। এসব অধ্যাদেশে যা ছিল, সেখানে সবই যে ঠিক ছিলো তা না। আমি নিজেই গুমের শিকার। গুম নিয়ে ভালো আইন হবে। সংসদে বিরোধী দল বেশ কয়েকবার ওয়াকআউট করেছেন। সংসদের বিধি অনুযায়ী সেটা করতেই পারেন। কিন্তু যেসব ইস্যুতে ওয়াকআউট করেছেন তা সঠিক ছিল না। সংসদের বাইরে তার ভুল তথ্য দিয়ে ব্রিফ করেছেন। বিরোদলীয় সেটা না বুঝেই প্রশ্ন করছে বাকিগুলো কোথায়? তারা যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, সেগুলো হুবুহু উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সেখানে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত থাকার বিষয়টি ছিল। তবে সরকার সেটা সংশোধন করেছে। এটা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করে পরবর্তীতে নতুন বিল আনা যেতে পারে। সংসদে যেসব বিল উত্থাপন হয়নি, তা সংশোধিত আকারে পরবর্তী কোনো অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে।
গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিকভাবে যে গণভোট এই গণভোট (১২ ফেব্রুয়ারির) সেই গণভোট না। আমার রাজনৈতিক বক্তব্যটা বলছি, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গণভোটের বৈধতা প্রশ্ন সেটা যখন আমরা এই সরকারের অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের সমস্ত বিষয়াবলী যখন আমরা লেজিটেমেসি দেব সাংবিধানিকভাবে, চতুর্থ তফসিলে তখন তাদের এই সমস্ত কর্মকাণ্ড বৈধতা পেয়ে যাবে। গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট হয়েছে এবং সেই গণভোটের বৈধতাও রয়েছে। এ জন্য নতুন করে ওই অধ্যাদেশকে আইন করার প্রয়োজন নেই। কারণ ওই আইনের আলোকে তো গণভোট হবে না। যদি গণভোট করতে হয় তখন সাংবিধানিকভাবে অথবা সংবিধানের বাইরে গণভোট করতে হলে আলাদা একটা আইন পাস করতে হবে। গণভোট নিয়ে বিরোধীদলের হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নাই, বৈধতা তো আছেই, অবৈধ তো বলছি না। সুতরাং চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত সরকারের সকল কর্মকাণ্ডকে দু–একটা বাদে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা লেজিটিমেট হয়ে যাবে।
—এজেড