ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

বিএনপি এখন মেজরিটি, সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে: হাসনাত

বিএনপি এখন মেজরিটি, সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এখন বিএনপি মেজরিটি সংসদে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সংসদের আইন কোনটা কি, সেটা সরকার যেভাবে চাইবে সেভাবেই হয়। বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, তাতে বিএনপি আমাদের সুখকর বার্তা দিচ্ছে না।

রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে সংসদে সাম্প্রতিক কার্যক্রম, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে লাইভে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সংসদে প্রশ্ন করার পর অর্থমন্ত্রী আমির খসরু শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এর মধ্যে নয়টিই এস আলমের প্রতিষ্ঠান। তাদেরকে আবার ব্যাংকে ফেরত আনার জন্য আইন পাস করা হলো। এটি বাংলাদেশের জন্য কালো দিন।

বিএনপি মন্ত্রীদের চাপের বিষয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে হাসনাত বলেন, আমার এলাকার বাজেট বন্ধ করে দেবেন, দিয়েন। আমার এলাকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিতে চান, দেন। পুলিশ যেন আমাদেরকে সহায়তা না করে ফোন দিয়ে বলে দেবেন, দেন। দিন শেষে আমি এটা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ আমাদের পক্ষে আছে।

পুলিশ সংস্কার কমিশন নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি, তবে তা সংসদে উত্থাপনই করা হয়নি। পুলিশকে জনবান্ধব ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই সংস্কার প্রস্তাব আনা হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশের পদোন্নতি ও পোস্টিং রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত— এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পুলিশকে সরকারের “লাঠিয়াল বাহিনী” হিসেবে ব্যবহার না করে কেবল আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি ছিল।

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মানবাধিকার কমিশনের পূর্ববর্তী সংস্কার বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তার ভাষায় “কার্যত দুর্বল”। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির শর্ত যুক্ত হওয়ায় এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়কে স্বাধীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এতে বিচারকদের পদোন্নতি, পোস্টিং এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে যেতে পারে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে; যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও দলীয়করণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

—এজেড