ঢাকা, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

নবীর অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কটুক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। একই সঙ্গে যারা হযরত মুহাম্মদ সা.-কে শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তৃতার শুরুতে তার নির্বাচনী এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হানজালা বলেন, তারা “ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে” তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন অভিভাবক পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নিজের নির্বাচনী এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন। আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে। সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব দেখলে তাদের ভালো লাগে। তিনি বলেন, বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।

মহানবীর (সা.) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছে ‘আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না’। পরে, “বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।”

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, “আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।”

নবীকে অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে হানজালা বলেন, আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটুক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।

এরপর তিনি সরাসরি আইন করার দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি বলব যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।”

‘ওসমান হাদি হত্যার’ বিচার দাবি করে হানজালা বলেন, যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক… তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মত আন্দোলনদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়েও সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে হানজালা বলেন, মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের কাছ থেকে ‘যথেষ্ট সহযোগিতা’ পাচ্ছেন না। যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিনদিন থেকে চারদিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ইয়াবা ও গাঁজার মত মাদকের বিরুদ্ধে আইন আরও শক্ত করতে হবে।

—এজেড