ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন, না হলে এর পরিণতি বিএনপিকে ভোগ করতে হবে

জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন, না হলে এর পরিণতি বিএনপিকে ভোগ করতে হবে

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। বিএনপিকে এর দায়ভার এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। সরকারকে বলবো, দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে এই সংকটের সুরাহা করেন। জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন। না হলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট-আইইডিবি মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গতকাল ১০ জন শিশু মারা গেছে হাম দুর্যোগের কারণে। সারা দেশে হাহাকার, আইসিইউ পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। তেল সংকটের কথা আপনারা সকলেই জানেন। আমাদের এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা— জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করবো; হামের মতো দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবো; জ্বালানি সংকট সমাধান নিয়ে সেমিনার করার কথা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য গত ১৬ বছর যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, লড়াই করেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত দেড় বছরে যেই জিনিস নিয়ে আমরা আলাপ করেছি, এখন আমাদেরকে ঠিক সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। সেই বিষয় নিয়ে আলাপ করতে হচ্ছে, সেই বিষয় নিয়ে আবার আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে দায়ভার এবং এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ হবে। একটা নতুন বন্দোবস্ত হবে, যেখানে স্বৈরাচার বারবার ফিরে আসবে না। কিন্তু গণভোট পরবর্তী সময় আপনারা সবকিছুই দেখছেন যে কিভাবে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে। বিএনপি এখন একটা কৃত্রিম বিরোধ বা সংকট তৈরি করছে। তারা বলছে, জুলাই সনদ তারা অক্ষর অক্ষরে পালন করবে, কিন্তু জুলাই আদেশটা অবৈধ। যে জুলাই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট তৈরি হয়েছিল, গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তারা সেটার বিরোধিতা করছে।

বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ আর জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। কারণ, জুলাই সনদকে তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এজন্য গণভোটের প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ, সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য গাঠনিক ক্ষমতা সংস্কার পরিষদের কথা এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছে। এখন বিএনপি কথার বরখেলাপ করেছে; গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এর দায়ভার এবং পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না। সরকারকে বলবো, দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে এই সংকটের সুরাহা করেন। জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন। না হলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।

—এজেড