বিশ্বব্যাপী তেল সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছিল, তা আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার তেল আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। এই সুযোগে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রুশ তেলের অর্ডার দিয়েছিল। কিন্তু বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রুশ ও ইরানি তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স বা ছাড় আর নবায়ন করা হবে না। ১১ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা তেলের ক্ষেত্রেই কেবল এই ছাড় প্রযোজ্য ছিল।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন স্বল্পমেয়াদী এই ব্যবস্থা নিয়েছিল। গত ১২ মার্চের আগে জাহাজে তোলা রুশ তেল সরবরাহের জন্য ৩০ দিনের একটি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ গত ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ২০ মার্চ ইরানি তেলের ওপর দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর তাদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে চলতি বছরের জানুয়ারিতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজসহ ভারতের প্রধান শোধনাগারগুলো রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিলেও পরবর্তীতে ছাড়ের সুযোগে তারা পুনরায় আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছিল। এমনকি এই সময়ে সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুটি সুপারট্যাংকার ইরানি তেল নিয়ে ভারতীয় বন্দরে পৌঁছেছিল। ঐতিহাসিকভাবে ভারত ইরানের তেলের বড় আমদানিকারক ছিল এবং ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা কঠোর হওয়ার আগে দেশটির মোট আমদানির ১১.৫ শতাংশই আসত ইরান থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই অনড় অবস্থানের ফলে ভারতকে এখন পুনরায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এসএফ