হাঙ্গেরির রাজনীতিতে পরিবর্তনের ঢেউ এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দেশটির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার গতকাল সোমবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) কর্তৃক পরোয়ানাভুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি হাঙ্গেরির মাটিতে পা রাখেন, তবে তাঁর সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য থাকবে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবান ছিলেন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাঁর সরকার নেতানিয়াহুকে সুরক্ষা দিতে আইসিসি থেকে হাঙ্গেরির সদস্যপদ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। কিন্তু পিটার ম্যাগিয়ার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দল ‘তিসজা’ (Tisza) ক্ষমতায় আসার পর আগামী ২ জুনের মধ্যে এই সদস্যপদ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া স্থগিত করবে। এর ফলে হাঙ্গেরি আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে বহাল থাকবে এবং আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ম্যাগিয়ার বলেন, ‘আমি বিষয়টি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পরিষ্কার করেছি। হাঙ্গেরি আইসিসির সদস্য হিসেবে থাকবে এবং আমাদের ভূখণ্ডে যদি এমন কেউ প্রবেশ করেন যাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তবে তাঁকে অবশ্যই হেফাজতে নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। আগামী শরতে ওরবানের আমন্ত্রণে নেতানিয়াহুর হাঙ্গেরি সফরের কথা থাকলেও ম্যাগিয়ারের এই নতুন ঘোষণা সেই সফরকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তবে ইউরোপের সব দেশ ম্যাগিয়ারের মতো কঠোর অবস্থানে নেই। ফ্রান্স ও ইতালি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কূটনৈতিক দায়মুক্তির কারণে তারা হয়তো নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করবে না। জার্মানির পক্ষ থেকেও এর আগে একই ধরনের সংশয় প্রকাশ করা হয়েছিল। আইসিসি সনদের ৯৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অনেক দেশই যুক্তি দিচ্ছে যে, অন্য রাষ্ট্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পিটার ম্যাগিয়ারের এই অবস্থান হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই হুঁশিয়ারির পর নেতানিয়াহু তাঁর বুদাপেস্ট সফর বহাল রাখেন কি না।
এসএফ