পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দিনের বেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে সংগঠনের নেতারা এসব দাবি জানান। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো আবুল হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শায়খুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এডভোকেট রফিকুল ইসলাম, মহানগরী দক্ষিণ সহ-সভাপতি মল্লিক মোহাম্মদ কেতাব আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির আজাদ, কাজী আরিফুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সরদার নেয়ামত উল্লাহ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হোসাইন, বায়তুলমাল সম্পাদক আবদুল হান্নান সরকার, ছাত্র মজলিস মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল বলেন, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে যারা মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন তারা মহানবী সা.-এর ন্যায়পরায়ণতাকে মানেন না। তাদের ঈমান পূর্ণাঙ্গ নয়। যারা যানবাহনের চাঁদাবাজীকে আপোষে লেনদেন বলছেন, তারা কীভাবে লাগামহীন চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণ করবেন ? জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় আজ ঊর্ধ্বমুখী। খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে গত কয়েক দিনে। ক্ষমতাসীন হওয়ার পরপরই সরকারি দলের কিছু ব্যক্তির জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে নেতিবাচরক মন্তব্য জনরায়ের প্রতি বিদ্রুপের শামিল। আমরা নবগঠিত সরকারকে জনগণের পাল্স বুঝার আহ্বান জানাচ্ছি। জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রত্যাশা করছি। আমরা দাবি করছি, রমজানের পবিত্রতার রক্ষার স্বার্থে নাটক-সিনেমা ও বিজ্ঞাপন সহ সকল ক্ষেত্রে অশ্লীলতা রোধ করতে হবে। শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে রোজা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আরো সুলভে সরবরাহ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল বলেন, কালোবাজারিদের আমরা বলতে চাই, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। গতকাল সেতুমন্ত্রী চাঁদাবাজির নতুন এক সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, আপসে টাকা দিলে তা চাঁদাবাজি নয়। আমরা সেতুমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।