নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট ও চরম অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে এখন ময়লার স্তূপ। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। ফলে দুর্গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ড্রেনে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে মশার প্রজনন কেন্দ্র। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর, মেঝে এমনকি বাথরুমগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে পুরো হাসপাতাল এলাকাজুড়ে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসা নিতে আসা মেহেদী হাসান, নসিমন বিবি ও ফাতেমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালের বাথরুমে বালতি নেই, মগ নেই। প্রচণ্ড গন্ধে ভেতরে ঢোকা যায় না। ফ্যানও নষ্ট। এখানে চিকিৎসার চেয়ে নোংরা পরিবেশই বেশি। সুস্থ হতে এসে উল্টো আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি।”
এদিকে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সংকটে আছে জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা। হাসপাতালে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে সচল আছে মাত্র একটি। বাকি দুটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের জেলা সদরে স্থানান্তর করতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. তাসনিম হুসাইন (আরিফ)বলেন, “সুইপারসহ আমাদের জনবলের মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। লোকবল কম থাকায় আমরা নিয়মিত এবং সঠিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না।”
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “৬ জনের কাজ একজনকে দিয়ে করানো খুবই দুরূহ কাজ। নতুন জনবল নিয়োগ পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আর নষ্ট অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত ডিসপোজ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
দ্রুত জনবল নিয়োগ ও অকেজো অ্যাম্বুলেন্স মেরামতের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
—এজেড