ঢাকা, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | ০ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র বিক্রেতা হেলালের স্বীকারোক্তি

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র বিক্রেতা হেলালের স্বীকারোক্তি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে সিআইডি তাঁকে আদালতে হাজির করলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয় এবং মাইক্রো অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে এর সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৭ সালে আমদানিকৃত এই পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টন ও চকবাজারের দুটি দোকান ঘুরে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের ‘হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং’-এর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। দোকানটির বর্তমান মালিক হেলাল ২০১৪ সালের পর লাইসেন্স নবায়ন না করেই অবৈধভাবে এই অস্ত্রটি সংগ্রহ করেছিলেন। লাইসেন্সবিহীন অবস্থায় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রটি কীভাবে খুনিদের হাতে পৌঁছালো, সে বিষয়ে তথ্য পেতেই তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ ও নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারীরা ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

এসএফ