ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

পবিত্র কাবার নিদর্শন দিয়ে দ্বীপে ‘মসজিদ’ গড়েছিলেন এপস্টেইন

পবিত্র কাবার নিদর্শন দিয়ে দ্বীপে ‘মসজিদ’ গড়েছিলেন এপস্টেইন

যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত একটি রহস্যময় স্থাপনায় ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফের নিদর্শনাদি ব্যবহার করেছিলেন বলে নতুন প্রকাশিত নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে নিজের বাসভবনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কাবার গিলাফের (কিসওয়া) সূচিকর্ম করা কাপড় পর্যবেক্ষণ করছেন এপস্টেইন। এসব কাপড়ে কোরআনের আয়াত খচিত ছিল, যা একসময় কাবার পবিত্র আবরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানা গেছে, ক্যারিবীয় সাগরের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা ও সোনালি গম্বুজযুক্ত ভবন নির্মাণ করেছিলেন তিনি, যেটিকে তিনি নিজে ‘মসজিদ’ বলে অভিহিত করতেন।

দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনটি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও ইমেইল ও যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণে এর নকশায় ইসলামী স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব স্পষ্ট ধরা পড়েছে। নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এপস্টেইন মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী মহলে বিস্তৃত যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আর্থিক উপদেষ্টা হওয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রভাবশালী সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি কাবার গিলাফের মতো অত্যন্ত মূল্যবান ও পবিত্র ধর্মীয় নিদর্শন সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। প্রতি বছর কাবার পুরোনো গিলাফের অংশবিশেষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা হয়, যার একটি অংশ এপস্টেইনের সংগ্রহে ছিল যা লক্ষাধিক মুসল্লির স্পর্শে পবিত্র হয়ে উঠেছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

২০১৭ সালে হারিকেন মারিয়ার আঘাতে এপস্টেইনের দ্বীপের ওই রহস্যময় ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিউইয়র্কের একটি কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়, যা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর পরও তার ব্যক্তিগত দ্বীপের এই বিচিত্র ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো এখন নতুন করে জনসমক্ষে আসছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রগুলো থেকে এপস্টেইনের জীবনযাপন ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।