কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আজ বুধবার অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে তেহরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ইউকেএমটিও-র তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলাটি চালানো হয় ওমানের উত্তর-পূর্বে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি গানবোট থেকে গুলি ও রকেট-চালিত গ্রেনেড ছোড়ায় জাহাজটির ‘ব্রিজ’ বা উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রিস-চালিত এই জাহাজের ক্যাপ্টেন জানান, কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তবে আইআরজিসি দাবি করেছে, জাহাজটি বারবার দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পরেই ইরান উপকূল থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে পানামার পতাকাবাহী দ্বিতীয় একটি জাহাজে গুলিবর্ষণ করা হয়। এছাড়া লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তৃতীয় আরেকটি কন্টেইনার জাহাজও হামলার শিকার হয়ে মাঝসমুদ্রে থেমে যায়। তবে এই দুটি ঘটনায় কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি এবং নাবিকেরা নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব তেল বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এসএফ