ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

প্রার্থনা করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন আর ভালো না হয়: হিমন্ত বিশ্বশর্মা

 প্রার্থনা করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক যেন আর ভালো না হয়: হিমন্ত বিশ্বশর্মা

ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি বজায় থাকার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি নিউজ-কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা যেন আর না কমে, ঈশ্বরের কাছে তিনি প্রতিদিন সকালে সেই প্রার্থনাই করেন।

হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আসামের জন্য বিপজ্জনক। তিনি ব্যাখ্যা করেন, দুই দেশের সম্পর্ক যখন ভালো থাকে, তখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কিছুটা শিথিল হয়ে যায়। বিএসএফ ও বিজিবি (যাকে তিনি বিডিআর বলে উল্লেখ করেছেন) যখন করমর্দন করে বা বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে, তখন অনুপ্রবেশ ঠেকানো বা 'পুশ-ব্যাক' করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে 'পুশ-ব্যাক' করার প্রক্রিয়াটি খোলামেলাভাবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, বিএসএফ অনেক সময় সন্দেহভাজনদের ১০ থেকে ৪০ দিন পর্যন্ত নিজেদের হেফাজতে রাখে। এরপর যখন সীমান্তের ওপারে বিজিবির উপস্থিতি থাকে না বা নজরদারি কম থাকে, তখন সুযোগ বুঝে তাদের ধাক্কা দিয়ে ওপারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক মেঘা প্রসাদ এই মন্তব্যকে 'ভারতবিরোধী' বলে অভিহিত করলে হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরাসরি জবাব দেন, তিনি কেবল তার মনের কথা বা আসামের মানুষের স্বার্থের কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বৈরী সম্পর্ক থাকলে সীমান্তে কড়া প্রহরা থাকে, বিএসএফ বন্দুক উঁচিয়ে সতর্ক থাকে এবং এর ফলে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল সম্প্রচারিত এই সাক্ষাৎকারের বিতর্কিত অংশগুলো সোমবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসএফ