বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতাকে শতভাগে উন্নীত করার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পূর্ববর্তী সময়ে ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছিল, এখন সেটিকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করা সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উথলি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এসএম আমানুল্লাহ, বগুড়া আরডিএ’র ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ এবং জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। উল্লেখ্য, একই অনুষ্ঠানে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। অতীতে বিভিন্ন সরকার শিক্ষকদের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় উৎসব ভাতা আরো বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শিক্ষা খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। শিক্ষার্থীদের মানবিক ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের কৃষি উন্নয়ন এবং অতীতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এহসানুল হক মিলন বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই তিন খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী, তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন। আজ কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতিরই আরেকটি প্রমাণ মিলেছে। কৃষকদের এই কার্ড দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নতুন হালখাতা খুললেন। কৃষকদের উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা, ভর্তুকি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা সহজেই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
—এজেড