শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের বাদ পড়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। শিক্ষকদের মেধাবী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বিগত দিনে কোনো অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর কবির প্রমুখ।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেসবুকে বট বহিনী আমাকে নিয়ে ভুয়া ফটোকার্ড বানায়, আমাকে নিয়ে ট্রল করে। এই বট বাহিনী কী যে শুরু করেছে আমাকে নিয়ে। আমি নাকি পরীক্ষার রুটিন দেব পরীক্ষার দিন, এসব অপপ্রচার চালায়। আমি বললাম, এইবার জিরো পাস করলেও এমপিও বাতিল হবে না; আর বট বাহিনী লিখে দিল- এবার ফেল করলে এমপিও বাতিল। এখন দেখা যায় ফেসবুকেই দেশ চালায়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা তোমাদের সঙ্গে থাকবো, তবে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা জনগণের টাকায় লেখাপড়া করে। প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বছরে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে। এ কারণে জনগণের প্রতি শিক্ষার্থীদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি নতুন প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীদের বলতে চাই তোমাদের অভিভাবকেরা তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাই আজ থেকে, যতদিন তোমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে প্রতিটি মুহূর্ত লেখা-পড়ার কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে তোমাদের পরিশ্রমই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে।
‘আই ওয়ান্ট টু সি এভরিথিং’ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে কাজ করছে সেটা দেখার জন্য আমি মন্ত্রণালয়ে সেল বানাচ্ছি। ইউজিসির রিপোর্টও আমি নেব, আমার রিপোর্টও থাকবে। আমাদের জনসংখ্যার অভাব নেই। আমাদের ছাত্রছাত্রীর অভাব নেই। সুতরাং, বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রের অভাব; আমাদের সেই অভাব নেই। বিশ্বায়নের যুগে এগিয়ে যেতে আমাদের কোনো বাধা নেই। বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে না পরলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সরকার বাজেটের কথা বলেছে, আমি সেটা নিতে পারছি না। আমি দেখলাম না আমাদের এই ইউনিভার্সিটির ভিসি এডুকেশনাল কোয়ালিটি কীভাবে ডেভেলপমেন্ট করা যায়, সেই খাতে একটি টাকাও চেয়েছে। আমার কাছে তো চাইতে হবে। সব সেই পুরোনো দিনের কথা শুধু বিল্ডিং, বিল্ডিং আর বিল্ডিং। কোয়ালিটি এডুকেশন লাগবে না। সেই জায়গায় আমরা অত্যন্ত দুর্বল।
—এজেড