বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও দেশের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন হয়নি। ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলে দেশ যখন সংকটের মধ্যে ছিল, তখন আবার স্বপ্ন দেখছে তরুণ প্রজন্ম। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। তবে গত ৫৬ বছরে খুব একটা ভালো করতে পারিনি আমরা। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এখন আবার সেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দেশের মানুষ।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বারিধারায় যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন সংগঠন জেসিআই কার্নিভালে তিনি এসব কথা বলেন।
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে অনেক কচকচানি কথাই থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে, কথা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে, এটা আবার কী হলো! এটা আমরা আশা করিনি। টেলিভিশনের টকশো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরও বেশি বিভ্রান্ত করবে সোশ্যাল মিডিয়া, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো আমাদের মাথাপিছু আয় অনেক কম। আমাদের জিডিপি অনেক কম। এখনো আমাদের প্রায় ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এখনো আমাদের অনেক মানুষ দুবেলা খেতে পান না। এই শহরের ফুটপাথে মানুষ শুয়ে থাকে, পড়ে থাকে পরিবার নিয়ে—তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই। এখনো আমাদের অসংখ্য ছেলে-মেয়েরা, শিশুরা লেখাপড়া করতে পারে না, তাদেরকে শ্রম বিক্রি করে বেঁচে থাকতে হয়। এই যে একটা দেশ, এই যে সমাজ, এটাকে পরিবর্তন করার জন্যে আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করতে চাই না, কিন্তু এটা আমাদের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ৫৬ বছরে আমাদের অনেকগুলো ইতিবাচক অর্জন আছে। ১৯৭১ সালে যখন দেশ স্বাধীন হয়, তখনকার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায় যে, আমাদের মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি এবং খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৮ লাখ টন। আজকে ১৮ কোটি মানুষের দেশে খাদ্য ঘাটতি প্রায় নাই বললেই চলে। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের অর্জন। এ কথা বলতে আমার কোনো দ্বিধা নেই যে, আরও অনেক কিছু করার ছিল। অন্তত যে শতকরা ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, তাদের দারিদ্র্য দূর করে উপরে টেনে তোলার কাজটা আমরা করতে পারিনি।
স্বপ্ন ছাড়া বড় কিছু করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমি জোর গলায় বলতে পারি, এই স্বপ্নটি দেখেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চেয়েছেন। একদলীয় ব্যবস্থা থেকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে কৃষকদের মধ্যে উৎপাদনের একটি ক্রিয়া জাগিয়ে তুলেছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে তরুণদের মধ্যে উৎপাদনের একটা যজ্ঞ কাজ করতে শুরু করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান আশা জাগিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটা দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রায় ১৫ বছরের একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পরে যখন আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যখন আমরা কথা বলতে পারতাম না। যখন আমাদের প্রিয়জন হারিয়ে গেলে, নিখোঁজ হয়ে গেলে তাকে আমরা খুঁজে পেতাম না। গুম হয়ে যেত। যখন আমরা চোখের সামনে দেখলাম ২৪ জুলাইয়ে আমাদের ছোট ছোট ছেলেরা-মেয়েরা প্রাণ দিচ্ছে অকাতরে দেশের পরিবর্তনের জন্য, আমাদের মনে আবার স্বপ্ন জেগে উঠেছে।
—এজেড