জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের পর ট্রেজারি বেঞ্চের (সরকারি দল) কিছু এমপির অঙ্গভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশন চলাকালে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। সেই জায়গায় একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (রুমিন ফারহানা) যখন কথা বলছিলেন, তখন ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কিছু অঙ্গভঙ্গি এসেছে, যা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে এই সংসদে যারা এসেছেন, তাদের কেউ কেউ-ও এ কাজটা করেছেন। আমি তাদের নাম বলে নিজে লজ্জা পেতে চাই না। এছাড়া, এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন এবং সরকারি দলের উদ্দেশে নিন্দা জ্ঞাপন করেন তিনি।
এর আগে, জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি দাবি করেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে মিথ্যাচার করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভাররা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। সরকারের যদি কোনো সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন? কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে?
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সরকার মার্কেটপ্লেস রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অদূরদর্শী। মানুষ কেনাকাটা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই করে। এছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না? তেলের মজুতদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপরই সরকারদলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হয়ে গেলে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়।
—এজেড