ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯ মাঘ ১৪৩২ | ১২ শা‘বান ১৪৪৭

শিরোনাম

বিডার সারা বছরের কার্যক্রমের ‘আমলনামা’ প্রকাশ আশিক চৌধুরীর

বিডার সারা বছরের কার্যক্রমের ‘আমলনামা’ প্রকাশ আশিক চৌধুরীর

কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সারা বছরের কার্যক্রমের একটি ‘আমলনামা’ নিজের স্বীকৃত ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করেছেন সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ফলাফল শতভাগ প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলেও বিডা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরতেই এই রেজাল্ট কার্ড প্রকাশ করেছেন তিনি।

আশিক চৌধুরী বলেন, বিডার কাজকে কেবল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) দিয়ে বিচার করার প্রবণতা দুঃখজনক। এফডিআই প্রবাহে বহু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয় কাজ করে, যার পুরো দায় বা কৃতিত্ব কোনো একক সংস্থার নয়। এরপরই তিনি জানান, গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী এক বছরে বাংলাদেশের এফডিআই প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যতিক্রমী। সাধারণত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এফডিআই কমে যাওয়ার নজিরই বেশি দেখা যায়।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি দুই শতাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করে বিডা ৩২টি পদক্ষেপ হাতে নেয়। এর মধ্যে ২৪টি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৭টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং একটি পদক্ষেপ পরবর্তী সরকারের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিডার কাজগুলোকে কোন চারটি খাতে ভাগ করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও ফেসবুক পোস্টে ধারণা দিয়েছেন আশিক চৌধুরী -

প্রথমত, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও সমন্বয়। বিডার প্রশাসনিক কাঠামো বিনিয়োগের ‘লাইফ সাইকেল’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। নির্বাহী সদস্য পদে এখন প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে যোগ্য বেসরকারি পেশাজীবী ও নিজস্ব কর্মকর্তারাও সুযোগ পাচ্ছেন। যুক্ত হয়েছে গবেষণা শাখা, প্রবাসী বিনিয়োগকারী ডেস্ক ও রিলেশনশিপ ম্যানেজার ব্যবস্থা। পাশাপাশি এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা শুরু হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ নীতি ও সেবার আধুনিকায়ন। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার আওতায় ১০টি প্রতিষ্ঠান শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই ২০ শতাংশ পণ্যের শুল্কায়নের সুবিধা পাচ্ছে। আংশিক রপ্তানিকারকদের জন্য বন্ড সুবিধা চালু হওয়ায় বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা উপকৃত হচ্ছেন। ক্যাপিটাল রিপ্যাট্রিয়েশন সহজ করা ও স্টার্টআপ নীতিমালা তৈরির কাজও এগোচ্ছে।

তৃতীয়ত, বিনিয়োগ আকর্ষণ। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজনের মাধ্যমে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনা স্কিমের কাজ চলছে।

চতুর্থত, খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তির ফলে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ইউরোপীয় বিনিয়োগ আসছে, যা বন্দর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। পাশাপাশি ফ্রি ট্রেড জোন ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন জোনের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন। বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের ২০টি অচল মিল বেসরকারি বিনিয়োগে লিজ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১৩টির কাজ শেষ।

তবে আশিক চৌধুরী স্বীকার করেন, আইনব্যবস্থা ও নানা হয়রানির মতো সব সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি। প্রতি বছর কিছু করে সমস্যার জট খুলতে পারলেই একসময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা অনেক সহজ হবে। ২০২৬ সালের কর্মপরিকল্পনাও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে।