বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামী আর্থিক নীতিমালা মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। শরিয়াহ কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে আমানত ফেরত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোনো ব্যাংক উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়লে মুনাফা বণ্টন করা যাবে না। ওই সময়ের সংশোধিত হিসাবপত্রে বড় ধরনের ক্ষতি চিহ্নিত হওয়ায় নীতিমালায় এই নির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৪ সালের জন্য লাভ না থাকার বিষয়টি সংবাদে উঠে এলেও আমানতকারীরা তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত অর্জিত সব সুদ ও বিনিয়োগ রিটার্ন সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হবে। কেউ যদি দশ বছর আগে আমানত করে থাকেন, তাহলে তিনি ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফাসহ তার সম্পূর্ণ রিটার্ন পাবেন। ব্যাংকগুলোর অনিশ্চিত অবস্থার কারণে ওই সময় প্রকৃত রিটার্ন অনেক সময় অস্পষ্ট থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করছে।
তিনি আরও বলেন, যদিও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকগুলো গুরুতর আর্থিক চাপের মুখে ছিল, তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানতকারীদের মূল বিনিয়োগের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিছু সময়ের জন্য লোকসান বাড়লেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন একটি স্বচ্ছ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে জনসাধারণের ওপর প্রভাব কম পড়ে এবং লোকসান বণ্টনের ইসলামী নীতিগুলো মানা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এমনভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করছে যাতে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং ইসলামী আর্থিক নীতি অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।