ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৯ মাঘ ১৪৩২ | ১২ শা‘বান ১৪৪৭

শিরোনাম

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

দেশে যেন আর কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোট

দেশে যেন আর কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোট

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেছেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো কোনো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয় এই অঙ্গীকারেই গণভোটের মূল লক্ষ্য। আর কোনো বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ নয়, কোনো বাবা-মাকে যেন আর সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়। এই পথ বন্ধ করার জন্যই গণভোটের উদ্যোগ।    

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার ।  বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আতিউর রহমান, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শুভ হোসেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও চবি শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, ডিন, রেজিস্ট্রারসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং আহত শিক্ষার্থীরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোট কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফল। এটি কারও মাথা থেকে হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা, মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞ মহলের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গণভোটের প্রশ্ন ও কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো দলীয় স্বার্থের বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্রকে একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক পথে নেওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস। গণভোট মানে জনগণের কণ্ঠস্বরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রের মৌলিক প্রশ্নে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই এই গণভোট তারই প্রমাণ। যারা গণভোটকে হঠাৎ সিদ্ধান্ত বলে প্রচার করছে, তারা হয় প্রক্রিয়াটি জানে না, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গণভোটের প্রতিটি ধাপ রাজনৈতিক ঐকমত্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে গণভোটের বিষয়বস্তু অনেক মানুষের কাছেই এখনও পরিষ্কার নয়; এমনকি শিক্ষিত ও জ্ঞানীগুণী মহলের মাঝেও বিভ্রান্তি রয়েছে। তাই গণভোটের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট নিজ নিজ নেটওয়ার্কে তুলে ধরার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।

মনির হায়দার বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে একবার মাত্র সংবিধান সংস্কার হয়েছে জাতীয় স্বার্থে। বাকি সবগুলো হয়েছে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় সরকারে যায়। এবং সেটার জন্যই সংবিধান সংস্কার ও গণভোট দেয়া হয়েছিল। এছাড়া বাকি সকল সংশোধনী ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর স্বার্থেই করা হয়েছে।

মনির হায়দার বলেন, বর্তমান সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ সদস্যবিশিষ্ট আরেকটি পার্লামেন্ট হবে, যারা নির্বাচিত হবে পিআর পদ্ধতি অনুযায়ী। কোনো দল যদি জাতীয় নির্বাচনে একটি আসন না পায় কিন্তু একটি নির্দিষ্ট পারসেন্টেজ পায়, তাহলে তার একজন সদস্য এখানে থাকবে। বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচন বিবেচনা করলে দেখা যায়, ৪০ শতাংশের উপরে কেউই ভোট পায় না। কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হলে ৫১ শতাংশ ভোট প্রয়োজন, তখন অন্য কারো সঙ্গে পরামর্শ নিতেই হবে। এই কারণে উচ্চকক্ষ আর একজনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। বিশেষ কিছু আইন পাস করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অনুমতির পরেও গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করতে হবে। যেমন ভবিষ্যতে কেউ যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে চায়, তাহলে দুই কক্ষে অনুমতির পাশাপাশি গণভোটেও তা জিততে হবে।

রাষ্ট্রপতি সংস্কার প্রসঙ্গে মনির হায়দার বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাধারণত দুটি কাজ করতে পারে- এক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং বিচারপতি নিয়োগ। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি কি আসলেই কাজগুলো করে থাকেন? বাস্তবে বিচারপতি প্রধানমন্ত্রী যাকে চান তাকেই নিয়োগ দিয়ে থাকেন। আমাদের আগে একজন রাষ্ট্রপতি ছিলেন, যিনি বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে গিয়ে জোকিং করতেন। সেই জোকার দুইদিন পরপর চিকিৎসার নাম করে দেশের বাইরে কোটি কোটি টাকা খরচ করতেন। তাই এখন থেকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেয়া হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সকল সদস্যের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে, যা আগে হাত তুলে নির্বাচন করা হতো। অনুচ্ছেদ ১৭ আমাদের সংসদের অন্যতম একটি কালো অনুচ্ছেদ, যার মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা দলের গোলামে পরিণত হয়ে যায়। কিন্তু এবার এর পরিবর্তন আসবে গণভোটের মাধ্যমে। শুধু তিনটি ক্ষেত্রে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারবেন না; এক- আস্থা ভোট, দুই- রাষ্ট্র যখন জরুরি অবস্থায় থাকে, তিন- জাতীয় বাজেট। 

নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৫৪ বছরে আমাদের দেশে যত রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ নির্বাচন কমিশন গঠন। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী গঠন করে থাকেন এবং তিনি সাধারণত তার পছন্দমতোই দেন। জুলাই সনদে বলা আছে- নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং পার্লামেন্টের সবাই বসে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে গঠন করা হবে। সরকারি কর্মকমিশন গঠনের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষভাবে গঠন করা হবে। সরকার থেকে প্রচারিত লিফলেট  ‘হ্যাঁ’ লেখা আছে, তাতে আসলে কিছুই আসে যায় না। কারণ ‘হ্যাঁ’ লেখা থাকলেও আপনি চাইলে ‘না’ তেও ভোট দিতে পারবেন। আপনি প্রকাশ্য আপনার যেকোনো মত প্রকাশ করতে পারবেন।