বর্তমান সংসদকে জনগণের দেওয়া গণভোটের আদেশ মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা গত ৫৫ বছরেও অর্জিত হয়নি। বরং ১৯৭২ সালের সংবিধানের চতুর ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে একটি নিকৃষ্ট স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ ও রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই সনদ একটি মাইলফলক।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল, নির্বাহী সদস্য ফরিদুল ইসলাম, অহিংস গণঅভ্যুত্থান আন্দোলন বাংলাদেশের সদস্য সচিব মাহবুব আলম চৌধুরী, কবি, গীতিকার ও এক্টিভিস্ট শহীদুল্লাহ ফরায়জী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, এনপিএর সদস্য বাকী বিল্লাহ, বাসদের (মার্কসবাদী) সদস্য জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, জেডিপির সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুল আলীম, রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য সেলিম খান ও চারু হক, রাষ্ট্র সংস্কার ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি লামিয়া ইসলাম প্রমুখ। সভায় দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও নতুন সংসদ সেই আদেশ অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। বর্তমান সংসদে গণভোটকে বেআইনি করার যে কোনো অপচেষ্টা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। অবাধ নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে সংবিধান সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
সরকারকে সতর্ক করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, যাদের ভোটে আপনারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছেন, সেই একই ভোটাররা গণভোটে আপনাদের সংস্কারের আদেশ দিয়েছে। এই আদেশ অগ্রাহ্য করলে জনপরিসরে সরকারের গ্রহণযোগ্যতায় ধস নামবে। অভ্যত্থান শেষ হয় নাই। সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যাত্রা শুরু না হওয়া পর্যন্ত অভ্যুত্থান শেষ হবে না। এখানে আরো সরকার পতন হতে পারে।
এবারের নির্বাচনকে অনেকে একটি মেটিকুলাসলি ডিজাইনড সমঝোতার নির্বাচন বলে উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, এটাই শেষ নির্বাচন না। সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের গরিমসি চলতে থাকলে জনগণকে সাথে নিয়ে আবারো সরকার পতনের লড়াই শুরু করা হবে সতর্ক করে দেন তিনি।
—এজেড