বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, ‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাটের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে পাট বীজের মানোন্নয়ন ও গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানিকৃত বীজের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশীয় বীজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বাংলাদেশ জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট-বিজেআরআইর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কো-অপারেটিভ জুট মিলস ও বাংলাদেশ জুটমিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, যুগ্ম সচিব হাফসা বেগম, উপসচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ ও শাহাদাৎ হোসেন কবির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শিকদার। এছাড়া পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিল পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পাটের দাম মণপ্রতি প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র তিন হাজার টাকা। কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও সরকার নজর দিচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার ইজারা পদ্ধতি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। মিলগুলো চালু হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদন বাড়বে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও বলেন, সরকার মূলত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ-পিপিপি মডেল অথবা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে এসব পাটকল পরিচালনায় আগ্রহী। দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে শিল্পাঞ্চলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একসময় নরসিংদীর এসব পাটকল এলাকায় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছিল। এটি স্থানীয়দের কাছে আবেগের বিষয়ও। মিলগুলো পুনরায় চালু হলে সাধারণ শ্রমিক পদে প্রায় শতভাগ স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পদে প্রয়োজনে বাইরের জনবল নিয়োগ করা হতে পারে।
এর আগে সকালে বন্ধ থাকা নরসিংদীর পলাশে কো-অপারেটিভ জুট মিল পরিদর্শন শেষে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের বন্ধ জুটমিলগুলো চালু করতে কাজ করছে সরকার। সরকারী বে-সরকারী যেকোনো ব্যবস্থাপনায় জুট মিলগুলোর চালু করতে সচেষ্ট রয়েছে বর্তমান সরকার। নরসিংদীর দুটিসহ সারাদেশেই বন্ধ কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। আর এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে আগে স্থানীয়রা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবে। বিগত সরকারের আমলে বন্ধথাকা জুটমিলগুলো লিজের নামে লুটপাট করা অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোনো অসংগতি থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এসএফ