ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১২ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মহানগরীর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) অনলাইন ও সশরীরে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর আলোচনা করে, সিদ্ধান্ত হবে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলনসহ নানা কারণে কিছু ক্লাস কম হয়েছে। একারণে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস চালু রাখতে চায় সরকার। জরিপ করে দেখা গেছে, ৫৫ শতাংশ মানুষ অনলাইনে যেতে চায়। তবে পুরোপুরি অনলাইন আনসোশ্যাল হয়ে যাবে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকার স্কুলের ক্ষেত্রে আপাতত এ বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। এছাড়া ট্রাফিকের কথা বিবেচনা করে ইলেকট্রিক, ব্যাটারি, সোলার এনার্জি সিস্টেমসহ নতুন ‘বাস সিস্টেম’ নিয়ে ভাবছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে পাঁচ দিনের পরিবর্তে ছয় দিন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অনলাইন শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সম্পূর্ণ অনলাইন শিক্ষা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে—এ বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তারা কাজ করছেন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কলেজ পর্যায়েও তা প্রযোজ্য হতে পারে কিনা, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আপাতত ভিন্ন ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে। বিশেষ করে মহানগরীগুলোতে ট্রাফিক জট, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থাও ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস, মেট্রো ও সৌরশক্তিচালিত পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।