ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | ৯ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ

ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়

ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। এ ধরনের ঘটনা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে। ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে যে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র-জনতার শক্তি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল, বর্তমানে তা বিভক্তি ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, যা উদ্বেগজনক।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানায়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়তের সহ সভাপতি নুর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সাদ বিন জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহ সাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি প্রমুখ।

‘গুপ্ত রাজনীতি’ প্রসঙ্গে ছাত্র জমিয়ত বলছে, কিছু সংগঠন এখনো গোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির পরিপন্থি। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপন রাজনীতির অর্থ হলো কোনো অগণতান্ত্রিক পরিকল্পনা বা ‘হিডেন অ্যাজেন্ডা’ থাকা। গোপন রাজনীতি ক্যাম্পাসে হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এ ধরনের কার্যক্রমকে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে এবং সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান করার দাবি জানায় তারা।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবির সমালোচনা করে ছাত্র জমিয়ত জানায়, তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়; বরং ‘লেজুড়বৃত্তি ও সন্ত্রাসী রাজনীতি’ বন্ধ চায়। গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব বৈধ ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনো রাজনৈতিক দলের ‘টর্চার সেল’ হতে পারে না; বরং এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত। হলে সিট বাণিজ্য ও ‘বড় ভাই সংস্কৃতি’ বন্ধ করে প্রশাসনিক নিয়মে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া, কোনো শিক্ষার্থীকে তার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে চাপের মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সচেতন বলয় গড়ে তোলার কথাও জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির উত্থাপিত দাবিগুলো হলো- ১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে লিপ্ত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ২. গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে; সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে হবে উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান। ৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের ‘পেশিশক্তির চারণভূমি’ হতে দেওয়া যাবে না। ৪. ইনসাফপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

—এজেড