জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এয়ারপোর্টে, সি-পোর্টে বড় বড় কন্টেইনার ধরা পড়ে। বলতেছে কাপড় এনেছে, খুলে দেখি সব অ্যালকোহল। কাপড় বা পোশাকের আড়ালে মদ আমদানি। এভাবেই দেশ চলবে? অ্যালকোহল যারা তৈরি করেন এবং অ্যালকোহল যারা পরিবেশন করেন, তাদের ট্যাক্স কিন্তু খুবই কম, একেবারে সাধারণ ব্যবসার মতো। এই জায়গাটাতে আমরা যদি একটু আপনাদের রিকোয়েস্ট করি, যেহেতু আমাদের স্বাস্থ্য এবং সমাজ, দুইটার জন্যই ক্ষতিকারক কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন, আমরা আপনাদের একটু ট্যাক্স বাড়াতে চাই।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তারকা হোটেল, বার ও রেস্তরাঁ মালিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব বলেন। আলোচনায় অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এবিবি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস-বিএবি, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন তাদের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
বার ও হোটেল মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের যারা যে সব হোটেল অ্যালকোহল বার আপনাদের আছে, ইমপোর্টের তথ্য এবং কনজাম্পশনের তথ্যটা যখন আমি বেঞ্চমার্কিং করি তখন কিন্তু মিলে না। এয়ারপোর্টে, সি পোর্টে বড় বড় কন্টেইনার ধরা পড়ে। বলতেছে কাপড় আনছে, খুলে দেখি সব অ্যালকোহল। তার মানে হলো আমার ফরমাল রেকর্ডে কোনো ইমপোর্ট নাই, কিন্তু আপনাদের ওখানে কনজাম্পশন হয়। আবার আমি খুলে দেখি কেউ বলছে কাপড়, আমি খুলে পাই পুরো অ্যালকোহলের কন্টেইনার। এগুলো কীভাবে দূর করবেন? এভাবেই দেশ চলবে?
বিমা খাতের নানা দুর্বলতা তুলে ধরে শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারের তাগিদ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মোটর বিমা আবশ্যিক ছিল। যেটা করতে ২০০-২৫০ টাকা লাগে, সেটাও উঠে গেছে। এগুলো উঠে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে কোনো প্রফেশনালিজম দাঁড়ায়নি। না দাঁড়ানোর কারণে আমার ট্যাক্স প্রফেশনাল নেই। পুরো বিমা খাত নিয়েই মানুষের মধ্যে নেগেটিভিটা মারাত্মক। এখনও বিমা কোম্পানির লাইসেন্সের জন্য বহু লোক দাঁড়িয়ে যাবে, আপনারা বলছেন ব্যবসা নেই।
বিমা খাতে দক্ষ লোকের অভাব আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্সুরেন্স কোম্পানি আছে, কোথাও কোনো অ্যাকচুয়ারি নেই (বিমা গাণনিক), পৃথিবীর কোথাও এটা নেই। আমার এখানে অ্যাকচুয়ারির পড়াশুনা নেই। বাংলাদেশে দুইজন অ্যাকচুয়ারি আছেন। একজনের বয়স ৮৮ পার হয়ে গেছে। আরেকজন ইয়ং, আমার মেয়ে। এরকম যখন অবস্থা তখন আপনি ডিসিপ্লিন কিভাবে আনবেন? আপনাদের যদি গভর্নেন্স ইম্প্রুভমেন্ট না হয় এবং ট্যাক্স প্লেয়ারের কনফিডেন্স না আসে, আবার গালাগালি করবে। এই যে আমাদের বাধ্য করছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে বড়লোক করার জন্য। ওরা তো আমাদের কিছু দেয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক বিমা কোম্পানি গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। এমনকি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মেয়াদ শেষে পাওনা অর্থও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দেওয়া হয় না। মানুষ সারা জীবন প্রিমিয়াম দেয়, কিন্তু ম্যাচিউরিটির পর টাকা পায় না। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের অবসরকালীন সুবিধা (রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) না দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন আবদুর রহমান খান। আমি তো এমনও দেখেছি ইভেন ইমপ্লয়িরা রিটায়ারমেন্টে গিয়েছে, রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটও দেয় না। এত মিসম্যানেজমেন্ট তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে একটা তদবির এসেছে, তার বড় ভাই রিটায়ারমেন্টে গিয়েছে রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট একটা কোম্পানিতে, বলছে দেয় না। এটা হলো তদবির। এ খাতে শৃঙ্খলা আনতে হবে।