ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ তিনজনের রিমান্ড

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ তিনজনের রিমান্ড

মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. কামরুল ইসলামের সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান আসামি যুবদল কর্মী মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। রিমান্ড হওয়া অপর দুজন হলেন তদন্তে পাওয়া সন্দেহভাজন এমবি স্বপন কাজী (২৫) ও মো. শাওন হোসেন। এর আগে গতকাল এ মামলার অপর চার আসামিকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। তারা হলেন মো. ফারুক হোসেন (৪২), মো. লিটন মিয়া (৩৮), মো. ফালান মিয়া (৪২) ও মো. রুবেল (৪২)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম আলোচিত এ মামলায় তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক মো. ছাব্বির হোসেন। রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আজিজুল হক দিদার। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই ছাব্বির আহমেদ। পিপি আজিজুল হক দিদার বলেন, আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের প্রার্থনা করি। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড দিয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় উদ্‌ঘাটন এবং গ্রেপ্তারের সূত্র সংগ্রহ, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্য ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থানসম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ, মামলার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামি, পরিকল্পনাকারী ও উসকানিদাতাদের পরিচয় নিশ্চিত করাসহ অপরাধ সংঘটনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উন্মোচনের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

সিকেডি হাসপাতালে শুক্রবার যুবদল পরিচয়ে চাঁদা দাবির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নসহ একটি প্রতিনিধি দল রাত দেড়টার দিকে শ্যামলীর ওই হাসপাতালে যান। তারা অধ্যাপক কামরুল ইসলামের কাছে ঘটনা জানতে চান এবং ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বস্ত দেন। পরদিন যুবদল কর্মী মঈন উদ্দিন ছাড়াও অচেনা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেন হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ আবু হানিফ। মামলার পর মঈনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, মঈনকে নড়াইলের কালিয়ার দাদনতলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামি মঈন ৫ লাখ টাকা চাঁদার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে মঈনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কে বাদীর বাসায় গিয়ে দরজা খুলতে বলে। বাদীর স্ত্রী মাহিনুর দরজা খুলে দিলে মঈন তাকে বলেন যে, চাঁদা বাবদ এখনই তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। নাহলে পরিবারটির ক্ষতি করবেন বলে তিনি হুমকি দেন। এ সময় বাদী বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা প্রায় ৫০-৬০ জন লোক জড়ো করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল করে। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালিগালাজ করে। পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, যার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বাদী শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

—এজেড