ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তিন দিনের রিমান্ডের এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করলেও আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত আসামির কাছে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। গ্রেপ্তার মাজেদুল হক হেলাল চট্টগ্রামের 'হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং' নামক দোকানের মালিক। তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করার পর মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে সেটির সিরিয়াল নম্বর পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে আমদানি করা ওই পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের 'এম আইচ আর্মস কোং' থেকে চকবাজারের 'ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স'-এর কাছে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই দোকান থেকে চট্টগ্রামের মাজেদুল হক হেলালের মালিকানাধীন 'হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং'-এর কাছে অস্ত্রটি পুনরায় বিক্রি করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হেলালের অস্ত্রের লাইসেন্সটি (৪৫/৪৮) ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা ছিল। লাইসেন্স নবায়ন না করেই তিনি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্স থেকে পিস্তলটি কেনেন। হেলালের কাছ থেকে এই অবৈধ অস্ত্রটি কীভাবে আসামিদের হাতে পৌঁছালো, সেই রহস্য উদ্ঘাটন ও তথ্য সংগ্রহের জন্যই তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টনের বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতিকারীরা শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ারে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা এবং বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসএফ