ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

একাদশে থাকার খবরটি টসের দুই সেকেন্ড আগে জানতে পারেন শরিফুল

 একাদশে থাকার খবরটি টসের দুই সেকেন্ড আগে জানতে পারেন শরিফুল

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে শুরুতে একাদশে ছিলেন না শরিফুল ইসলাম। ওয়ার্মআপের সময় মোস্তাফিজুর রহমান চোট পেলে ভাগ্য খুলে যায় শরিফুলের। টসের ঠিক দুই সেকেন্ড আগে তিনি জানতে পারেন যে তিনি একাদশে আছেন। হুট করে পাওয়া এই সুযোগটি দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি পেসার।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি শরিফুল। কিউইদের বিপক্ষে এই আকস্মিক সুযোগ নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘টস হওয়ার ঠিক এক-দুই সেকেন্ড আগে আমাকে বলা হলো, আমি খেলব। আমি তাসকিন ভাই আর রিশাদ ভাইকে বলছিলাম, আজকের ম্যাচটা আমার রিজিকে আছে। তারপর দ্রুত রানআপ মেপে ওয়ার্ম-আপ বোলিং শুরু করি। আলহামদুলিল্লাহ, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে সুযোগটা দিয়েছেন।’

গত শুক্রবার প্রথম ম্যাচে মোস্তাফিজের চোটে সুযোগ পাওয়া শরিফুল শুরুতেই উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করেন। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৭ রান দিয়ে তিনি নেন ২ উইকেট এবং করেন ৪২টি ডট বল। পাওয়ারপ্লেতে ৪ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান দেন তিনি। মাঝের ওভারেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শরিফুল। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম ও ডিন ফক্সক্রফটরা স্বচ্ছন্দ হতে পারেননি, যার ফলে নিউজিল্যান্ড ২৪৭ রানে থামে।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে শরিফুল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ব্যক্তিগতভাবে মোটামুটি ভালো বোলিং করেছি। কিন্তু দিন শেষে আমরা ম্যাচটা হেরেছি, তাই অবশ্যই খারাপ লাগছে।’

আগামী সোমবার দ্বিতীয় ম্যাচের আগে মোস্তাফিজ অনেকটাই সুস্থ। যদি তিনি একাদশে ফেরেন, তবে ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও শরিফুলকে বাদ পড়তে হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেখেন, একজন পেশাদার হিসেবে স্কোয়াডে থাকা ১৫ জনই সবসময় ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত থাকি। শেষ সিদ্ধান্তটা কোচিং স্টাফের। তারা যাদের নিয়ে দল সাজাবেন, আমরা সেটাই মেনে মাঠে নামব। আমাদের কাজ হলো সবসময় প্রস্তুত থাকা।’

প্রায় ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামা শরিফুলের জন্য মানিয়ে নেওয়াটা কিছুটা কঠিন ছিল কারণ তিনি গত কিছুদিন ধরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ব্যস্ত ছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে তিনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলেছেন। এই পরিবর্তন নিয়ে তিনি জানান, ‘আমি সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে। তারপর একটা গ্যাপ ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দলে ছিলাম না। কিন্তু আমি সবসময় বেসিক কাজগুলো করার চেষ্টা করে গেছি, যেন সুযোগ এলে ভালো করতে পারি।’

পাকিস্তান সিরিজে একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ, যেখানে তিন পেসার ছিলেন মোস্তাফিজ, তাসকিন ও নাহিদ রানা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও একই পরিকল্পনা থাকলেও মোস্তাফিজের ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে সুযোগ আসে শরিফুলের। মাঠের বাইরে থাকাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না তিনি। তাঁর মতে, ‘এখানে হতাশার কিছু নেই। যারা খেলছে সবাই ভালো করছে, আর যারা একাদশের বাইরে আছে তারাও ভালো খেলোয়াড়। হেলদি কম্পিটিশন আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো। মোস্তাফিজ ভাইয়ের বদলে আমি আসলাম। এভাবে যদি কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়ে বা বাইরে যায়, নতুন কেউ এসে যেন ভালো করতে পারে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক।’

এসএফ