ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | ১ জ্বিলকদ ১৪৪৭

শিরোনাম

ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য ‍উদঘাটনে আবার শুরু হচ্ছে বিচার

  ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য ‍উদঘাটনে আবার শুরু হচ্ছে বিচার

আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একজন বিচারকের পেশাগত কেলেঙ্কারির কারণে আগের বিচারকাজটি বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রায় এক বছর পর পুনরায় এই আইনি কার্যক্রম শুরু হলো।

নতুন এই বিচারে প্রায় ১২০ জন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। ম্যারাডোনার মৃত্যুর পেছনে তাঁর চিকিৎসক দলের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা আবারো খতিয়ে দেখা হবে। গত বছরের ১১ মার্চ ম্যারাডোনাকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে সাত চিকিৎসকের বিচার শুরু হয়েছিল। তবে অভিযুক্তরা শুরু থেকেই এই দাবি অস্বীকার করে আসছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে হার্ট ফেইলিউর এবং ফুসফুসে তরল জমার কারণে (অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমা) মৃত্যু হয় ম্যারাডোনার। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের টাইগ্রেতে তাঁর সেরে ওঠার সময়কার পরিবেশ নিয়ে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে 'চরম অবহেলা'র অভিযোগ আনেন সরকারি কৌঁসুলিরা। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি, ম্যারাডোনা কোকেন ও মদে আসক্ত ছিলেন এবং তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে আগের বিচারক হুলিয়েতা মাকিনতাখ আদালতের নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রামাণ্যচিত্রের কাজে যুক্ত হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয় এবং বিচারকাজটি বাতিল করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন এই বিচারকাজ আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা আইকন। ২০০০ সালে ফিফা তাঁকে পেলের সাথে যৌথভাবে 'শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মাঠের জাদুকরী নৈপুণ্য ছাড়াও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর বিতর্কিত 'হ্যান্ড অব গড' এবং একই ম্যাচে একক প্রচেষ্টায় করা জাদুকরী গোলটি ফুটবল ইতিহাসে রূপকথা হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল এবং করোনা মহামারির মধ্যেও লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রিয় তারকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন।

এসএফ