সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের বর্তমান জরাজীর্ণ দশা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। এর ফলেই স্টেডিয়ামের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর সিলেট সার্কিট হাউসে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনের আগে প্রতিমন্ত্রী খুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এরপর দুপুর ১টায় তিনি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামও পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, বিসিবি পরিচালক রাহাত শামস, বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহসহ স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
ক্রীড়াঙ্গনের এই স্থবিরতা কাটাতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপি বড় পরিসরে কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের প্রতিটি জেলায় একযোগে ‘নতুন ক্রীড়া কর্মসূচি’ উদ্বোধন করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ মোট সাতটি ইভেন্ট নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। যেখানে দেশের বিভিন্ন উপজেলার দল এবং ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ ও খেলোয়াড়দের সহায়তার বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে আরও প্রায় ৫০০ জনকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন প্রতিভা আবির্ভূত হবে এবং ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠে সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া বাধ্যতামূলক করা হবে এবং ক্রীড়া বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। সব খেলাকে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে আগামীতে দেশকে ক্রীড়াবান্ধব করতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতি গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নির্দেশনায় ফুটবল ও ক্রিকেটের পাশাপাশি অন্যান্য খেলাকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে খেলাধুলার বিস্তার ঘটানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।