নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাত ও ঘুষ লেনদেনের কোনো প্রশ্নই আসে না মন্তব্য করে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. সারওয়ার আলম বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। দশ কোটি টাকা নয়, দশ হাজার কোটি টাকাও দিয়ে আমাকে কেউ কিনতে পারবে না। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ভয়ঙ্কর ফেক নিউজ। নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। উল্লেখ্য, সিলেট-১ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্বের যথাযথ প্রমাণ না থাকায় এনসিপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়। বাছাইয়ের শেষ দিনে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমএ মালিকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার এনসিপি প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ করেন এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনেন। এ ঘটনায় বুধবার ডিসি সারওয়ার আলম সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি গুজব আছে, এক প্রার্থীর কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি করছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা।
তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি বিদেশি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য নন। সিলেটে তিনজন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন দাবি করেছেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, তবে নির্ধারিত সময়ে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেননি। আমরা কেবল আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা হোম অফিসের স্বীকৃত ডকুমেন্ট অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের রসিদ প্রয়োজন। প্রার্থী তা দিতে না পারায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই।
ঘুষের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ১০ কোটি টাকাও নয়; কেউ যদি এক টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রমাণ দিতে পারে, আমি সঙ্গে সঙ্গে চাকরি ছেড়ে দেব এবং সর্বোচ্চ শাস্তি গ্রহণ করব। এটি ভয়ঙ্কর ফেক নিউজ। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করতে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রশাসন যে কোনো মূল্যে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে ফেক নিউজ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।