পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান অভিযোগ করেছেন, তাকে বিচার বিভাগের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে কারাগারে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইমরান খানের বোন আলিমা খানম এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে অত্যন্ত ‘নিষ্ঠুর পরিস্থিতির’ মধ্যে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের বিচার বিভাগকে দায়ী এবং তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোকে সরকারের হাতিয়ার বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
আলিমা খানম দাবি করেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের (ইমরান খান ও বুশরা বিবি) জামিন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করতে অস্বীকার করছেন, যাতে তাদের কারাবাস দীর্ঘায়িত করা যায়। তার (ইমরান খান) মামলাগুলোতে নিযুক্ত বিচারকরা ন্যায়বিচার করছেন না; তারা নিশ্চিত করছেন যেন শুনানি কখনোই না হয়। বাস্তবতা খুবই সহজ: যেই মুহূর্তে এই মামলার শুনানি হবে, এর দুর্বল ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ হয়ে যাবে এবং জামিন অনিবার্য হয়ে পড়বে। ঠিক এ কারণেই এটি আটকে রাখা হচ্ছে। ইমরান খান ও বুশরা বিবির এই দীর্ঘ কারাবাসের কারণ হলেন বিচারপতি ডোগার, যিনি প্রকাশ্যে এমন একটি সরকারকে সহায়তা করছেন যারা ইমরান খানের ম্যান্ডেট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে।
ইমরান খানের আইনজীবী সালমান সাফদারের বরাত দিয়ে আলিমা খানম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রেখে বুশরা বিবির মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাতে ইমরান খান সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন। এই চাপ ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত এবং অমানবিক। তবে ইমরান খান তার বার্তায় স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘কোনো সমঝোতা নয়, কোনো আত্মসমর্পণ নয়; হয় মুক্তি, নয় মৃত্যু।’
এর আগে ইমরান খানের দুই বোন আলিমা ও উজমা খান অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মিলে ইমরান খানকে কারাগারে ধীরে ধীরে মেরে ফেলার একটি ‘ঘাতক ষড়যন্ত্র’ করছেন। আলিমা বলেন, ইমরান খান আমাকে বলেছিলেন যে তারা (সেনাবাহিনী) আমাকে ধীরে ধীরে হত্যা করবে এবং এর জন্য সেনাপ্রধান আসিম মুনির দায়ী থাকবে। জেল কর্তৃপক্ষ তার সাথে যেভাবে আচরণ করছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (নাকভি) মতো লোকেরা যা বলছে, তার ভিত্তিতে আমি এখন বুঝতে পারছি যে তিনি ঠিকই বলেছিলেন। এদিকে গত মাসে ঈদের সময় নিজের ছেলে কাসিম খানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালেও ইমরান খান বুশরা বিবির ওপর চলমান ‘অমানবিক আচরণের’ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা বেশ কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে তিনি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন। বন্দী অবস্থায় তিনি তার ডান চোখের প্রায় সমস্ত দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং গত মাসে একাধিক দফায় চিকিৎসাও নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
—এজেড