যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) লাভের পথ নিশ্চিত করতে এক শ্রেণির অভিবাসীকে ‘ভুয়া সমকামী’ সাজিয়ে আবেদনের সুযোগ করে দিচ্ছে অসাধু আইনজীবী ও পরামর্শক চক্র। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসা অভিবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ নিয়ে তাদের সমকামী হওয়ার ভুয়া গল্প ও নথিপত্র তৈরি করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রটি বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের টার্গেট করছে, কারণ এসব দেশে সমকামিতা দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় ‘জীবননাশের ঝুঁকি’র অজুহাত দেখিয়ে সহজেই যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই ভুয়া আশ্রয় আবেদনের জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ৭ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। একজন পরামর্শক ২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বিনিময়ে একটি ‘কমপ্রিহেনসিভ প্যাকেজ’ প্রদানের প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে ছিল সমকামী ক্লাবে তোলা ছবি, ভুয়া প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের গল্প, সংগঠনের সুপারিশপত্র এবং সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির প্রশিক্ষণ। একজন পরামর্শক গোপন প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকার সহজ উপায় হলো ‘গে কেস’ সাজানো।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, অনেক আবেদনকারী মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাছে মানসিক অবসাদের নাটক করেন, এমনকি কেউ কেউ সহানুভূতি পাওয়ার জন্য এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার মিথ্যা তথ্যও প্রদান করেন। লন্ডনের একটি কমিউনিটি সেন্টারের সভায় উপস্থিত একজন অভিবাসী নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন যে, সেখানে উপস্থিতদের মধ্যে ১ শতাংশও প্রকৃত সমকামী নয়; সবাই কেবল বৈধ হওয়ার জন্য এই নাটক করছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পরিকল্পিত প্রতারণার ফলে যারা প্রকৃতপক্ষেই নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় খুঁজছেন, তারা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা। বিশেষ করে ২০২৩ সালে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনের ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের।
এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) জানিয়েছে, ভুয়া তথ্য দিয়ে আশ্রয় আবেদন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে আবেদনকারীকে বহিষ্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জেল ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। অপব্যবহার রোধে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় আরো কঠোর স্ক্রিনিং পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
এসএফ