পবিত্র মক্কার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজস্ব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেছে সৌদি আরব। এই ঐতিহাসিক ঘোষণা নিশ্চিত করেছেন রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটস-আরসিএমসির সিইও ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আল-রশিদ। তিনি জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং এর কৌশলগত দিকনির্দেশনাগুলোও অনুমোদিত হয়েছে।
হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ অ্যারাবিয়ার এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথা জানান। মক্কার উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থার প্রধানের কাছ থেকে আসা এটিই এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। সালেহ আল-রশিদ জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মক্কায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণের গভীর সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রকল্পের কৌশলগত, অর্থনৈতিক এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত দিকনির্দেশনাগুলো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত।
বিমানবন্দরটির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ এবং পরিচালনার জন্য সবচেয়ে কার্যকর মডেলটি নির্ধারণ করতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করবে আরসিএমসি। এই বিমানবন্দর মূলত মক্কার স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিবছর আসা লাখ লাখ হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে নতুন এই বিমানবন্দর জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
গত কয়েক দশক ধরে সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মক্কায় বিমানবন্দর নির্মাণের ধারণাটি নাকচ করে আসছিল। ধর্মীয় বিধিনিষেধ এবং পবিত্র কাবার ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের অনুমতি না থাকায় মক্কার সীমানার ভেতরে বিমানবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। বর্তমানে আকাশপথে আসা হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মক্কায় পৌঁছাতে ৮০-৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। দীর্ঘ এই যাত্রা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি যাতায়াত ব্যবস্থায় যোগ করে বাড়তি জটিলতা। মক্কায় নিজস্ব বিমানবন্দর নির্মিত হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।
—এজেড