দীর্ঘ ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি চললেও, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক ঘোষণায় তেহরান জানিয়েছে, এখন থেকে এই প্রণালি অতিক্রমকারী প্রতিটি তেলবাহী জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে টোল প্রদান করতে হবে। বিশেষ বিষয় হলো, এই টোল শুধুমাত্র চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’ অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সি ‘বিটকয়েন’-এ পরিশোধযোগ্য।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য জাহাজগুলোকে ১ ডলার করে টোল দিতে হবে। একটি সাধারণ সুপার ট্যাংকারে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল থাকে, ফলে প্রতিটি জাহাজকে পারাপারের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার গুনতে হবে। তবে পণ্যহীন বা খালি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি লাগবে না।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাহাজগুলোকে প্রণালিতে প্রবেশের আগেই ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্যসহ আগাম নোটিশ দিতে হবে। শুধুমাত্র ইরানের অনুমতি সাপেক্ষে এবং দেশটির উপকূলের (কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জ) কাছ দিয়ে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের পরিবর্তে চীনা ইউয়ান ও বিটকয়েন বেছে নেওয়ার পেছনে ইরানের সুদূরপ্রসারী কৌশল রয়েছে। মার্কিন ও ইউরোপীয় কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা (SWIFT) ব্যবহারে ইরান বাধার সম্মুখীন। ইউয়ানে লেনদেন করলে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমে এবং বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেনের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ সহজে পার হতে পারলেও ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে কঠোরতা বজায় রাখা হবে। এই ঘোষণার পর থেকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এই নতুন ব্যবস্থার ফলে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, কারণ তাদের তেল রপ্তানির প্রধান পথটি এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় চলে এলো।
এসএফ