মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর কয়েক সপ্তাহের তীব্র বিমান হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, তেহরানের অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) আরটিভি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কাছে প্রায় আড়াই হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। পেন্টাগন ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘চূর্ণ’ করার দাবি করলেও গোয়েন্দারা বলছেন, অন্তত এক হাজারটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এখনো ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে।
ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সমরাস্ত্র পাহাড়ের নিচে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন বাঙ্কারে থাকায় সাধারণ বিমান হামলায় সেগুলো ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা মূলত সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করতে পারলেও ভেতরে থাকা মূল লঞ্চার বা সমরাস্ত্রগুলো অকেজো করতে পারেননি।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স থেকে লঞ্চারগুলো উদ্ধার ও মেরামতের কাজ শুরু করেছে। সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক সতর্ক করেছেন যে, ইরানিদের দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতে থাকা ড্রোনের ৫০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হলেও তেহরান এখন রাশিয়া বা চীন থেকে নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে হামলার জন্য তাদের কাছে এখনো কার্যকর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে।
এই সামরিক বাস্তবতার মধ্যেই শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই বিরতিকে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি মেনে নেওয়া হলে ইরান দ্রুততম সময়ে তাদের আগের সামরিক শক্তিতে ফিরে আসতে সক্ষম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এসএফ