ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ | ২৬ চৈত্র ১৪৩২ | ২০ শাওয়াল ১৪৪৭

ডা. তাসনিম জারা

হামের ভয়াবহ প্রার্দুভাব নিয়ে সরকার স্পষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা দিচ্ছে না

হামের ভয়াবহ প্রার্দুভাব নিয়ে সরকার স্পষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা দিচ্ছে না

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা বলেছেন, হামের ভয়াবহ প্রার্দুভাবে শিশুদের নিয়ে বাবা-মায়েদের নাভিশ্বাস অবস্থা হলেও সরকার স্পষ্ট তথ্য ও নির্দেশনা দিচ্ছে না। শিশুদের বাবা-মায়েরা বুঝতে পারছেন না এই পরিস্থিতিতে তাদের আসলে করণীয়টা কী। শিশুর জ্বর আসা মাত্রই কি তারা ডাক্তারের কাছে যাবেন নাকি শরীরে র‍্যাশ ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তারা কখন এবং কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন নেই। অভিভাবকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন যে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাবেন নাকি জেলা হাসপাতালে যাবেন, অথবা শিশুকে ঘরে রেখে আইসোলেট বা বিচ্ছিন্ন করবেন কি না।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার জোট আয়োজিত ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস ‌সমতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়’ নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সাইফুল আলম খান মিলন, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন-এ দেওয়ার জন্য যখন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন সেখান থেকে যে অন্য সুস্থ শিশুদের শরীরে এই রোগ ছড়াবে না, তার কী নিশ্চয়তা আছে? সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনায় চরম অস্পষ্টতা রয়েছে এবং তথ্যের সঠিক প্রবাহ নেই। সঠিক তথ্যের অভাবে অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটবেন এবং এতে অসংখ্য শিশু আরও বেশি হারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। অথচ কোনো সরকারি নির্দেশনায় তিনি এই সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য দেখেননি, যা আমাদের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর এক ভয়াবহ দুর্বলতা হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেন।

জারা জনস্বাস্থ্যের বর্তমান নাজুক চিত্র তুলে ধরে ডা. তাসনিম বলেন, কারও যদি হাম হয়ে যায় তবে দ্রুত শনাক্ত করে তাকে আইসোলেট করা জরুরি যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। একজনের থেকে কতজন শিশুর শরীরে রোগটি ছড়াচ্ছে বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা মূলত নির্ভর করে একটি দেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর সক্ষমতার ওপর। এবারের হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে দেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামো ঠিক কতটা ভঙ্গুর। যেকোনো প্রাদুর্ভাবের সময় সঠিক ও মানসম্মত তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় জনগণ শঙ্কিত হবে নাকি আশ্বস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থাও নির্ভর করে নিখুঁত তথ্যের ওপর। তিনটি বিষয়ে আমাদের প্রকৃত অবস্থান এখন ভাববার সময় এসেছে। সাধারণ মানুষ জানতে চায় ঠিক কতজন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, কতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে, কতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে কতজন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অথচ এই মৌলিক তথ্যটুকুই স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে নেই। কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যখন জানতে চান কতজন শিশু হামে মারা গেছে, তখন সেটিরও কোনো সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয় দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত হতাশাজনক।

—এজেড